লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় - জেনে নিন

লিভার আমাদের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ তাই লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার। আমরা যদি লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় না জানি তাহলে আমাদের শরীরের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই যারা লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় জানতে চান আমার আজকের পোস্ট তাদের জন্য।

Image

আমাদের শুধু লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় জানলেই চলবে না আর আমাদের খাওয়ার ব্যাপারেও অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তাই আসুন আমরা সঠিকভাবে লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় জেনে নিই।

লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায়

মানবদেহের লিভার এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে হলে লিভার কে ভালো রাখার কোন বিকল্প নেই তবে অনেক কিছু অভ্যাস আছে যেগুলো লিভার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে লিভার ভালো রাখতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হল সচেতনতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিভারের সমস্যা হয় খাওয়ার অনিয়মের কারণেই। এমন অনেক ওষুধ রয়েছে যা নিয়মিত খেলে লিভারের সমস্যা হয়। 

লিভারের সমস্যা হলে মূলত প্রধান যে সমস্যা হয় তা হলো মানুষের হজম শক্তি কমে যায় তাই প্রত্যেকের উচিত প্রতিদিন যে খাবার খাওয়া হয় তা তেল মশলা ছাড়া খাওয়া উচিত সেই সঙ্গে প্রতিদিন খাবারের তালিকায় কিছু ফল ও খাওয়া উচিত। আর সঠিকভাবে নিয়ম মেনে চললে লিভার ভালো রাখা সম্ভব।

বাজার থেকে কিনে লো ফ্যাট ফুড না খাওয়া

লিভার ভালো রাখতে বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এড়াতে যেমন অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার এবং অ্যালকোহল যুক্ত পানিয় এড়িয়ে চলা উচিত ঠিক তেমনি সুপার মার্কেট থেকে লো ফ্যাট যুক্ত খাবার কিনে খাওয়াও উচিত নয়। আর এর প্রধান কারণ হলো সুপার মার্কেটে যেসব খাবারে লো ফ্যাট বা ৯৯% লেয়ার ইন ফ্যাক্ট ফুড লেখা থাকে কিন্তু এই ফুডে ফ্যাট কমানো হলেও খাবারের মান এবং স্বাদ ধরে রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে চিনি ব্যবহার করা হয় যা লিভারের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দেয়। তাই সুপার শপ থেকে লো ফ্যাট যুক্ত খাবার কিনে খাওয়া কখনোই উচিত নয়।

আরো পড়ুনঃ রাজশাহীর -পপুলার- ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল ডাক্তারগণের তালিকা

অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা

লিভারের সমস্যা দূর করতে হলে এবং লিভার কে ভালো রাখতে হলে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে কারণ অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খেলে দেহে চর্বি জমা হয় যা লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ।

স্টোসের সময় না খাওয়া

অনেক সময় আমাদের শরীর দুর্বল মনে হয় এবং অনুভূত হয় শরীরে শক্তি কম পাওয়া যাচ্ছে আর এই সময় মানুষ শরীরের শক্তি ফিরে পেতে বেশি খাওয়া-দাওয়া করে যা একদমই উচিত নয়। কারণ চিকিৎসকেরা মনে করেন লিভার সুস্থ রাখতে হলে স্ট্রেসের সময় খাবার খাওয়া যাবে না কারণ এই সময় লিভার খাবার সঠিকভাবে হজম করতে পারে না।

চা - কফি খাওয়া

আমরা বরাবরই একথা শুনে থাকি যে, চা এবং কফি খেলে শরীরের ক্ষতি হয় বিশেষ করে দুধ যা শরীরের জন্য বিষক্রিয়ার কাজ করে কিন্তু আমাদের অনেকের জানা নেই কফি খেলে শরীরের ক্ষতি হয় না বরং অনেক উপকার পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য গবেষণায় জানা যায় নিয়মিত কফি খেলে বিশেষ করে ব্ল্যাক কফি খেলে লিভারের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় কমপক্ষে ১৪ শতাংশ। তাই লিভার ভাল রাখতে হলে ব্ল্যাক কফি খাওয়া উচিত।

হেলদি ফ্যাট

আমরা যখন ডায়েট করি তখন সকল ধরনের ফ্যাট যুক্ত খাবার আমাদের ডায়েট চার্ট থেকে বাদ দিয়ে দেই যা কখনোই করা উচিত নয় কারণ ফ্যাট শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর লিভারকে সুস্থ রাখতে হলে ডায়েট থেকে ফ্যাট একেবারে বাদ দেওয়া ও যাবে না। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে অবশ্যই হেলদি ফ্যাট খেতে হবে। এমন কিছু খাবার রয়েছে যাতে রয়েছে হেলদি ফ্যাট যেমন - ওয়ালনাট, অলিভ এসব জাতীয় খাবার আপনি খেতে পারেন কারণ এতে রয়েছে হেলদি ফ্যাট।

অ্যালকোহল

লিভার ভালো রাখতে হলে অ্যালকোহল যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয় কারণ এলকোহলযুক্ত খাবার লিভারে টক্সিন জমা করে আর টক্সিন আমাদের লিভার ক্ষতিগ্রস্ত করে। অ্যালকোহল যুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত মদ্যপান, এমনকি অনেক সফট ড্রিংস রয়েছে যেগুলোতে অ্যালকোহল রয়েছে এবং এগুলো লিভারে টক্সিন জমা করে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। তাই লিভার ভালো রাখতে হলে এগুলো অবশ্যই পরিহার করা উচিত।

প্ল্যান প্রোটিন

লিভার সুস্থ রাখতে হলে সবচেয়ে বেশি জরুরী হলো সঠিকভাবে খাবার খাওয়া এবং সঠিক নিয়মে খাবার খাওয়া। এক্ষেত্রে আপনি plant protein সমায়ক খাবার খেতে পারেন আর প্লান্ট প্রোটিন খাবারকে অনেক সময় এনিমেল প্রোটিন বলা হয় যা লিভারের জন্য অনেক উপকারী। যেমন - সবুজ শাকসবজি, ডাল, ফাইবার যুক্ত খাবার, বিভিন্ন প্রকার বাদাম ইত্যাদি।

স্প্রে টক্সিন

স্প্রে টক্সিন আমাদের লিভারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে এ জাতীয় স্প্রে মুখে দিলে তা রক্তের সাথে দ্রুত শোষিত হয় এবং আমাদের লিভারে ক্ষতি করে আর লিভার কে ভালো রাখতে হলে স্প্রে জাতীয় টক্সিন থেকে সাবধান থাকতে হবে।  লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় - জেনে নিন এবং সুস্থ থাকুন।

ওষুধ খাওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা

বিভিন্ন অসুস্থতার সময় আমরা ঔষধ খেয়ে থাকি কিন্তু আমরা জানি না যে কোন ঔষুধ আমাদের লিভারের ক্ষতি করে। আমাদের ঔষুধ খাওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে কারণ এমন ঔষধ রয়েছে যেগুলো খেলে আমরা সাময়িক সুস্থতা বোধ করলেও লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়। যেমন - কোলেস্টেরল এর ঔষধ, পেইনকিলার, টাইটেনাল জাতীয় ঔষধ ইত্যাদি। আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা একটু সমস্যা বোধ করলে -

আরো পড়ুনঃ হেপাটাইটিসের কারণ- লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে নিন

যে কোন ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনে খান তারা কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়েই ওষুধ খান এতে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়। মনে রাখবেন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একটি নাপা ও খাওয়া ঠিক নয়।

ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট

ভিটামিন বা ভিটামিন supplement খাওয়ার সময় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে কারণ এমন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয় যা লিভার ডিটক্সিফাই করতে পারে না। ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আমাদের লিভার কে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও প্রোটিনের মধ্যে রয়েছে অ্এযামাইনো এসিড যা লিভার পরিষ্কার রাখতে ভালো কাজ করে। এছাড়াও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড লিভার সুস্থ রাখতে সহায়তা করে থাকে।

বিভিন্ন প্রকার মাছ

টুনা, স্যালমন, সর্ডিনের মত মাছে থাকে ওমেগা থ্রি যা আমাদের লিভারের কে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে কারণ আমাদের শরীরের কোষে জমে থাকা চর্বি, ওমেগা থ্রি চর্বি ভাঙতে সহায়তা করে এবং আমাদের শরীরের প্রদাহ কে কমিয়ে দেয়। তাই পারফেক্ট মাছ যদি আপনি খেতে পারেন তাহলে আপনার লিভার ভালো থাকবে। লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় - জেনে নিন এবং সুস্থ থাকুন।

অ্যাভোকাডো

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার হলো অ্যাভোকাডো ফল। আর এই ফলটি আমাদের লিভারের পৃষ্ঠে অস্বাস্থ্যকর কোন চর্বি জমতে দেয় না কারণ অ্যাভোকাডো ফলে গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে তাই লিভার থেকে টক্সিন সহজেই দূর করতে পারে। এছাড়া অ্যাভোকাডোতে রয়েছে উচ্চ ফাইবার যাতে মেটাবলিজম অনেক উন্নত আর এর কারণে আমাদের ওজন অনেক নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই আপনি আপনার লিভারকে সুস্থ রাখতে অ্যাভোকাডো ফল খেতে পারেন।

গ্রিন টি

গ্রিন টি লিভার ভালো রাখতে সহায়তা করে। আবার আমাদের শরীরের ওজনও কমায় গ্রিন টি। আমাদের শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি শোষণ করে এবং লিভারে জমে থাকা ফ্যাট ও কমায় কারণ গ্রিনটিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা লিভারের কার্যকারিতা অনেক বাড়িয়ে দেয়।

লিভার ভালো রাখতে রসুন

রসুন এ রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় যার কারণে লিভারে ক্ষতিকর চর্বি জমতে পারে না। এছাড়াও রসুন এ রয়েছে অনেক প্রাকৃতিক যৌগ যা লিভারের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় - জেনে নিন এবং সুস্থ থাকুন।

বাতাবি লেবু

বাতাবি লেবু আমাদের সবার কাছে অতি পরিচিত একটি ফল। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা বাতাবি লেবু ফ্যাটি লিভার থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে কারণ এতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীর থেকে সব বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং আমাদের লিভার কে রক্ষা করে এবং লিভারের কোন ক্ষতি হতে দেয় না।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল এ রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড। আর ওমেগা থ্রি লিভার এর কার্যকারিতা অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং এটি আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার হাত থেকে আমাদের লিভার কে রক্ষা করে।

হারবাল কেয়ার বা গাছের মূল

আমাদের প্রকৃতিতে এমন অনেক গাছ রয়েছে যা আমাদের লিভার কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে যেমন - কাঁচা হলুদ বা হলুদের মূল লিভার ভালো রাতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও ডেলডিলিয়ন এবং মিল্ক থিলস আমাদের লিভার কে ভালো রাখতে সহায়তা করে থাকে।

বিভিন্ন প্রকার বাদাম

বাদামে রয়েছে ভিটামিন ই যা আমাদের ফ্যাটি লিভারের রোগ থেকে রক্ষা করে। এছাড়া বাদাম হার্ট ও ভালো রাতে সহায়তা করে থাকে। আমাদের ফ্যাটি লিভার রোগ থেকে আমাদের জীবন কে রক্ষা করে এবং আমাদের লিভার কে সুস্থ রাখে। এছাড়াও আখরোট রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

হলুদ খাওয়া

হলুদে রয়েছে কারকিউমিন নামক একটি শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লেমোটারি উপাদান যা আমাদের লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর এই উপাদান গুলো আমাদের লিভার কে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া হলুদ অ্যালকোহলযুক্ত বিষাক্ত ক্রিয়া ও আমাদের লিভার থেকে বের করে দিতে সহায়তা করে থাকে।

আঙুর খাওয়া

আঙ্গুর এবং খোসাযুক্ত আঙ্গুর লিভার রোগের অনেক ঝুঁকি কমায় কারণ ২০২২ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, আঙ্গুর এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে একটি এন্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের লিভার ভালো রাখতে সহায়তা করে। লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় - জেনে নিন এবং সুস্থ থাকুন।

প্রতিদিন আপেল খাওয়া

লিভার ভালো রাখতে হলে প্রতিদিন একটি করে আপিল খাওয়া উচিত কারণ আপেলের রয়েছে পলিস্যা  চোরাইড পেকটিন নামের একটি দ্রবনীয় ফাইবার যা লিভার থেকে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করতে করে থাকে এবং আমাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং শর্করার মাত্রা ও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ব্রকোলি

ব্রকোলি আমাদের লিভার কে ভালো রাখতে সহায়তা করে তাই প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে ব্রকোলি খাওয়া উচিত। ব্রকোলি নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি ডিজিজ থেকেও আমাদেরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে থাকে।

লিভার খারাপ হলে কি করে বুঝবো?

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে আমাদের লিভার যদি খারাপ হয় তাহলে আমরা কিভাবে বুঝব! আসলে আমাদের জানা উচিত প্রত্যেকটি রোগেরই একটি লক্ষণ রয়েছে। তেমনি লিভার খারাপ হলেও কিছু লক্ষণ রয়েছে যা দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার লিভারের সমস্যা রয়েছে। লিভারের সমস্যা হলে আপনি যে লক্ষণ গুলো বুঝতে পারবেন তা হল -

আরো পড়ুনঃ বাত ব্যথা কি - বাত ব্যথা হলে করণীয় জেনে নিন

  • নিঃশ্বাস অস্বস্তি লাগা অর্থাৎ নিঃশ্বাসে একটি পচা দুর্গন্ধ আশা।
  • খাবারে অনীহা।
  • অল্প খাবারে পেট ভরে যাওয়া।
  • সারাক্ষণ বমি বমি লাগা।
  • খাবার বদহজম হওয়া।
  • বুকের নিচে পেটের গহবরের ডানপাশের ওপরে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • সারাক্ষণ কিটকিট করে কামড় অনুভব করা।
  • অনেক সময় পেটের চামড়ার নিচে চুলকানো অনুভূত হওয়া যা আপনি হাত দিয়ে নাড়লে আরাম অনুভব করবেন।
  • খাবার খাওয়ার পর মনে হয় পেট থেকে বুদবুদ বের হওয়া।
  • খাওবার পরিপাক হওয়ার সময় পেটের ওয়ালে আঘাত লাগা অনুভূত হওয়া।
  • শরীরে ফোলা ভাব অনুভূত হওয়া বা শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়া।
  • ঘন ঘন মলের চাপ অনুভূত হওয়া।
  • ক্লান্তি অনুভূত হওয়া।
  • মাথাব্যথা করা।
  • ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা হওয়া।
  • সারাক্ষণ গ্যাস অনুভূত হওয়া।
  • গাড় প্রসাব হওয়া।
  • ত্বক এবং চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া।
  • রক্তের এসজিপিটি বেড়ে যাওয়া।

লিভার হল মানব দেহের সবচেয়ে ভারী একটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ এবং বৃহত্তম গ্রন্থি। এটি পেটের গহবরের ডান পাশের ওপরের অংশে অবস্থিত এবং পেটের ডান দিকের ডায়া ফ্রামের ঠিক নিচে এবং পিত্তথলির উপরে অবস্থিত। আমাদের সকল প্রকার খাদ্য হজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই লিভার তাই লিভার সুস্থ রাখা জরুরি। লিভার রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ গুলি কে কখনো ফিল্টার করতে পারে না যার কারণে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় - জেনে নিন এবং সুস্থ থাকুন।

লিভার খারাপ হলে কি গ্যাস হয়?

লিভার খারাপ হলে গ্যাস অনুভূত হয় কিনা তা আমাদের অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে। মনে রাখবেন, গ্যাস হল এমন একটি সমস্যা যা যেকোনো খাবারের কারণে ও হয়ে থাকতে পারে তবে লিভার খারাপ হলে সবসময় গ্যাস অনুভূত হয়। আর এই সমস্যা ওষুধ খেলেও সমাধান হয় না কারণ একটি দুর্বল লিভার রক্ত থেকে কখনোই বিষাক্ত পদার্থ গুলিকে ফিল্টার করতে পারেনা যার কারণে শরীর দুর্বল থাকে, ক্লান্তি অনুভূত হয়, মাথাব্যথা করে এবং ঘনঘন গ্যাসীয় সংবেদনা অনুভূত হয়।

আরো পড়ুনঃ টিউমার থেকে কি ক্যান্সার হয় -  জেনে নিন

আবার খাবার হজম করার জন্য লিভারে খাবার ভেঙ্গা পাচক রস নিঃসরণ করতে পারেনা তখন শরীর ফুলে যায় এবং মলের ঘনঘন চাপ অনুভূত হয়। তাই আপনার যদি অতিরিক্ত গ্যাস অনুভূত হয় এবং বিভিন্ন প্রকার ‍ এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরও আপনার এই সমস্যা দূর না হয় তাহলে অবশ্যই একজন লিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন।

লিভারের স্বাভাবিক সাইজ কত?

মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গের একটি নির্ধারিত মাপ বা সাইজ রয়েছে তেমনি লিভারের ও একটি নির্দিষ্ট সাইজ রয়েছে। সেক্ষেত্রে মানুষের উচ্চতার উপরও অনেক সময় নির্ভর করতে পারে তবে সাধারণভাবে যা বলা হয় তা হলো লিভারের আকার সাধারণত গড় যকৃতের আকার, পারকেশন দ্বারা পরিমাপ করা হয়। আর এক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য একটি লিভারের মাপ হল ১০.৫ সেন্টিমিটার এবং মেয়েদের জন্য ৭ সেন্টিমিটার। এক্ষেত্রে আরও মনে রাখতে হবে যদি লিভারের স্পেন এই পরিমাপের চেয়ে দুই বা তিন সেন্টিমিটারের বেশি অথবা কম হয় তাহলে এই লিভার অস্বাভাবিক লিভার বলে বিবেচিত হয়।

কোন ঔষধ লিভারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে?

এমন অনেক ওষুধ রয়েছে যা খেলে লিভারের অনেক ক্ষতি হয় এর মধ্যে রয়েছে জ্বর কমানোর ঔষধ. ব্যাথা নাশক ঔষধ বিশেষ করে যেসব ঔষধে অ্যাসিটামিনোফেন ধারণ করে তা লিভারে আঘাত করে এবং লিভারের ক্ষতি করে। তবে বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত মাত্রায় নেওয়া হয় তখন লিভারের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। আর অতিরিক্ত ওষুধের ফলে যদি লিভারে সমস্যা হয় তাহলে আপনি যে লক্ষণগুলো বুঝতে পারবেন তা হল - পেটে ব্যথা অনুভূত হওয়া, ফোলা ভাব, গাড় প্রসাব হওয়া, চোখ এবং ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া। লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় - জেনে নিন এবং সুস্থ থাকুন।

শেষ কথা

লিভার আমাদের শরীরের জন্য একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ তাই এর যত্ন নেওয়া এবং ভালো রাখা জরুরি। যার কারনে আমাদের  লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় সম্পর্কের জানা একান্ত প্রয়োজন। মনে রাখবেন সুস্থ দেহ সুস্থ মন এর নাম স্বাস্থ্য। তাই নিজের শরীরের যত্ন নিন এবং  লিভার ভালো রাখার ২০টি উপায় সম্পর্কে জানুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url